‘কম্বলের নিচে আমার যৌনাঙ্গে…’, কৈশোরে যৌন হেনস্তার ভয়াবহ অভিজ্ঞতা ভাগ রাম কাপুরের
গ্ল্যামারের চাকচিক্যের অন্তরালে চলে যায় সেলিব্রিটিদের জীবনের দুঃখ-কষ্ট-যন্ত্রণা। তাঁদের রঙিন জীবন আর কেচ্ছা কেলেঙ্কারিই হয়ে ওঠে পেজ থ্রির কাঙ্খিত খবর। সেলিব্রিটিদের জীবনের মুখরোচক গল্পগুলো শুনতেই উদগ্রীব হয়ে থাকে সাধারণ মানুষ। কিন্তু, তাঁদের জীবনের কিছু চরম সত্য চোখে এনে দেয়, তা বললে অত্যুক্তি হবে না। সম্প্রতি ‘লকআপ ২’-এ কৈশোরের যন্ত্রণাদায়ক ঘটনার কথা শেয়ার করলেন।
রিয়ালিটি শোয়ের মঞ্চে যখন কঙ্গনা রানাউত-ফারহা খানের সমালোচনায় বিদ্ধ তখন ব্যক্তিগতজীবন নিয়ে মুখ খুললেন রাম কাপুর। মাত্র তেরো বছর বয়সে যৌন হেনস্তার গোপন তথ্য শেয়ার করলেন টেলি অভিনেতা। ‘লকআপ ২’-এর সাম্প্রতিক পর্বে রাম জানান, বোর্ডিং স্কুলে পড়ার সময় তেরো বছর বয়সে যৌন হেনস্তার শিকার হয়েছিলেন। স্ত্রী গৌতমী কাপুর ছাড়া এতদিন পর্যন্ত রামের এই যন্ত্রণার কথা আর কেউ জানতেন না।
ভয়াবহ সেই অভিজ্ঞতা ভাগ করে রাম বলেন, “আমি তখন অষ্টম শ্রেণির ছাত্র, বয়স ১৩ বছর। সেই সময় আমি যৌন হেনস্থার শিকার হই। স্কুলের পর আমরা ডরমিটরিতে বসে গল্প করতাম। দশম শ্রেণির এক ছাত্র আমার বিছানায় বসেছিল। হঠাৎ সে কম্বলের নিচে আমার যৌনাঙ্গ স্পর্শ করে। চারপাশে অন্তত ত্রিশ থেকে চল্লিশ জন ছিল। ভয়ে কাঁটা হয়ে গিয়েছিলাম। কিছুই করতে পারিনি আর সে তার কাজ করে যাচ্ছিল।”
সেই মুহূর্তে কী প্রতিক্রিয়া দেবেন তা বুঝতে পারেননি। ঘটনার পর বহুদিন মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে কাটিয়েছিলেন। অতীত ফুঁড়ে রামের সংযোজন, “আমি বুঝতে পারছিলাম না আমার কী করা উচিত। চুপ থাকব নাকি মুখ বুঝে সহ্য করব। কিছুক্ষণ পর সাহস জুগিয়ে বলেছিলাম স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছি না। সঙ্গে সঙ্গে আমাকে ছেড়ে দেয়। এই ঘটনার পর আমি মানসিকভাবে খুব দুর্বল হয়ে পড়েছিলাম। চুপচাপ থাকতাম। তবে পরে আমার কাছে এই ঘটনার জন্য ও ক্ষমা চেয়েছিল। মানসিক আঘাত কাটিয়ে উঠতে সাহায্যও করেছিল।”
অভিনেতা আরও বলেন, “বিষয়টা খুবই অদ্ভুত। যে ব্যক্তি আমার মানসিক আঘাতের কারণ ছিল সেই আমাকে সেরে উঠতে সাহায্য করেছিল। শেষ পর্যন্ত আমরা ভালো বন্ধু হয়ে যাই। আমি বুঝতে পেরেছিলাম ও সত্যিই অনুতপ্ত। এটা আমার জীবনের এমন একটি গোপন কাহিনি যা আমার স্ত্রী গৌতমী ছাড়া আর কেউ জানে না।”
রামের কথায় প্রতিযোগীরা কার্যত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। প্রতিযোগী সুফি মোতিওয়ালাও জানান তিনিও একটা সময় যৌন হেনস্তার শিকার হয়েছিলেন। সঞ্চালক ফারাহ খান রামকে জড়িয়ে ধরে বলেন, “আমি দুঃখিত।” রীতেশ দেশমুখ অভিনেতার সাহসিকতার প্রশংসা করে বলেন, “তুমি সত্যিই খুব শক্তিশালী। আজ তোমার থেকে আমি নতুন কিছু শিখলাম। তোমার জন্য সত্যিই গর্বিত।”
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0