ঘরে ফিরে নবজাতকের মুখদর্শন, যন্ত্রণায় প্রলেপ বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ হওয়া দানিশের, কী বলছেন সুইটি?

Jul 10, 2026 - 17:36
 0  1

প্রায় এক বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আদালতের নির্দেশে অবশেষে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ফিরলেন বীরভূমের পাইকর গ্রামের বাসিন্দা দানিশ শেখ, সুইটি বিবি এবং তাঁদের দুই ছেলে। বুধবার তাঁরা বাংলাদেশের সীমান্ত অতিক্রম করে মালদহের মহদীপুর সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশ করেন। সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে রাতেই নিজের গ্রামে ফিরে আসেন। দীর্ঘদিন পর পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলন, বিশেষ করে সদ্যোজাত ছেলের মুখ প্রথমবার দেখার আনন্দে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন দানিশ।

দানিশ জানান, চার মাসের ছেলে আপনের জন্মের সময় তিনি পাশে থাকতে পারেননি। দেশে ফিরে এই প্রথম সন্তানের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। তিনি বলেন, পরিবারের সবার কাছে ফিরে এসে তিনি স্বস্তি ও আনন্দ অনুভব করছেন। অন্যদিকে সুইটি বিবিও জানান, দীর্ঘদিন নিজের দেশ ও বাড়ি থেকে দূরে থাকতে হওয়ায় তাঁদের মানসিক কষ্টের শেষ ছিল না।

জীবিকার সন্ধানে বহু বছর ধরে দিল্লিতে কর্মরত ছিলেন এই পরিবার। কিন্তু গত বছরের ২৩ জুন তাঁদের জীবনে নেমে আসে বিপর্যয়। অভিযোগ, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে দিল্লি পুলিশ কয়েকজন পরিযায়ী শ্রমিককে আটক করে, যাঁদের মধ্যে ছিলেন অন্তঃসত্ত্বা সোনালি খাতুন ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের দাবি, পর্যাপ্ত নাগরিকত্ব যাচাই না করেই ২৬ জুন অসম সীমান্ত দিয়ে তাঁদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

এরপর দীর্ঘদিন পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় উদ্বেগ বাড়ে। সোনালির বাবা ভদু শেখ পাইকর থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। পরে তাঁদের ভারতে ফিরিয়ে আনার দাবিতে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়ের করা হয়। আদালতের নির্দেশে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে তাঁদের ফিরিয়ে আনার নির্দেশ জারি হয়। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে গত ডিসেম্বর মাসে অন্তঃসত্ত্বা সোনালি খাতুন ও তাঁর ছোট ছেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলেও দানিশ শেখ, সুইটি বিবি এবং তাঁদের দুই ছেলে তখনও বাংলাদেশেই আটকে ছিলেন।

অবশেষে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর বুধবার দানিশ শেখ, সুইটি বিবি, কুরবান শেখ এবং ইমাম শেখ ভারতে ফিরতে সক্ষম হন। দেশে ফিরে দানিশ জানান, পরিবারের সঙ্গে মিলিত হওয়াই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় স্বস্তি। তিনি রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলাম এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদও জানান।

ভবিষ্যতে আবার দিল্লিতে কাজে ফিরবেন কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে দানিশ বলেন, পশ্চিমবঙ্গেই যদি উপযুক্ত কাজের সুযোগ পান এবং পরিবারের দায়িত্ব সামলাতে পারেন, তাহলে আর বাইরে যেতে চান না। বর্তমানে তাঁর আধার ও প্যান কার্ড থাকলেও ভোটার পরিচয়পত্র নেই। সেই কারণে ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রয়োজনীয় নথি পাওয়ার জন্য তিনি আবেদন করেছেন এবং দ্রুত ইতিবাচক ফলের আশা করছেন।

নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে সুইটি বিবি অভিযোগ করেন, দিল্লি পুলিশ তাঁদের মারধর ও দুর্ব্যবহার করেছিল। তাঁদের বারবার জানানো সত্ত্বেও যে তাঁরা ভারতীয় নাগরিক, সেই দাবি গুরুত্ব না দিয়ে জোর করে বাংলাদেশে পাঠানো হয় বলে তাঁর অভিযোগ। যদিও বাংলাদেশে কারাবন্দি অবস্থায় কোনও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হননি বলে জানান তিনি। তবে দীর্ঘদিন নিজের দেশ ও পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার মানসিক যন্ত্রণা তাঁদের কাছে সবচেয়ে কঠিন অভিজ্ঞতা ছিল।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0