ঋতব্রতর দলই ‘আসল’ তৃণমূল! দলীয় কর্মীদের মামলার রায়ে জানিয়ে দিল আলিপুর আদালত
কারা ‘আসল’? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাট তৃণমূল নাকি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আসল’ তৃণমূল? শীর্ষ নেতাদের মধ্যে এনিয়ে দড়ি টানাটানি অব্যাহত। ভঙ্গুর জোড়াফুল শিবিরের ছত্রাখান অবস্থায় সবচেয়ে চাপে দলের সাধারণ কর্মীরা। কাকে সামনে রেখে এগোবেন তাঁরা, বুঝতে পারছেন না। এর চূড়ান্ত ফয়সালা চেয়ে আলিপুর আদালতে মামলা দায়ের করেছিলেন ঘাসফুল শিবিরের কর্মীরা। সেই মামলার রায় ঘোষণা হল রবিবার। আদালত জানাল, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের দলটাই ‘আসল তৃণমূল’। অরূপ রায় যে দলের সর্বভারতীয় চেয়ারপার্সন, সেটাই দলের আসল পরিচয়। সাংবাদিক বৈঠক করে ঋতব্রত এই খবর জানান। সেইসঙ্গে তিনি এও জানান, আলিপুর আদালতের এই রায়ের কপি হাতে পেলে তা নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে নিজেদের স্বপক্ষে প্রমাণ আরও জোরাল করতে।
ছাব্বিশের ভোটে গোহারা হারের পর তৃণমূল কংগ্রেস পরিবার ভেঙে তছনছ হয়ে গিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃ্ত্বাধীন কালীঘাট তৃণমূল ক্রমশ ক্ষয়িষ্ণু, দলের অভ্যন্তরের ‘বিদ্রোহে’ জেরবার। আর উলটোদিকে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ‘আসল’ তৃণমূলের ঘর ভরে উঠছে। যত সময় যাচ্ছে, মমতাকে একা করে একে একে তৃণমূল নেতারা ভিড়ছেন ঋতব্রত শিবিরে। তাতে চূড়ান্ত বিভ্রান্ত হয়েছিলেন সাধারণ কর্মীরা। তাঁরাই আলিপুর আদালতে মামলা করেন। আজ রায় শুনে নিজেদের দিশা খুঁজে পেলেন।
রবিবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিক বৈঠক করে গোটা বিষয়টি জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘‘অরূপ রায় আমাদের চেয়ারপার্সন ঘোষিত হন। তারপর তৃণমূলের নাম করে কিছু লোক আমাদের নানা পার্টি অফিসে ঢুকে অশান্তি করছিল। তার ভিত্তিতেই সাধারণ তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা আলিপুর আদালতে একটা মামলা করেছিলেন। রায় বলেছে, গত ২২ জুন জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকের ভিত্তিতে যে কমিটি তৈরি হয়েছিল, সেটাই একমাত্র আইনগত স্বীকৃত দল। কেউ আসল-নকল বিতর্ক তৈরি করতে চাইলে বলব, আদালতের এই রায় দেখে নিন। এই কমিটি বাদে কেউ নিজেদের তৃণমূল বলে দাবি করলে সেটা অবৈধ।এই কমিটি বাদে আর কেউ যদি তাদের নিজেদের কমিটি মেম্বার বলে দাবি করে তাহলে তাদের এসব থেকে দূরে থাকতে বলা হচ্ছে।”
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0