টাকা ঢোকেনি কেন, ফর্ম পূরণে কী ভুল করেছেন? কৃষ্ণনগরে মহিলাদের প্রশ্নে জেরবার সাইবার কাফে মালিক

Jul 10, 2026 - 18:50
 0  1
টাকা ঢোকেনি কেন, ফর্ম পূরণে কী ভুল করেছেন? কৃষ্ণনগরে মহিলাদের প্রশ্নে জেরবার সাইবার কাফে মালিক

অন্নপূর্ণা প্রকল্পের আবেদন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে কৃষ্ণনগরে এখন তৈরি হয়েছে এক ভিন্ন পরিস্থিতি। একদিকে আবেদনপত্রে ভুলের অভিযোগ তুলে সাইবার ক্যাফে মালিকদের কাঠগড়ায় তুলছেন বহু আবেদনকারী। অন্যদিকে, যাঁদের আবেদন পুনরায় যাচাইয়ের জন্য ডাকা হয়েছে, তাঁদের প্রয়োজনীয় নথির একাধিক ফটোকপি করাতে হওয়ায় জেরক্সের দোকানগুলিতে বেড়েছে ভিড়। ফলে ফটোকপি ব্যবসায়ীদের আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

অন্নপূর্ণা প্রকল্পে অনেক মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অনুদানের টাকা পৌঁছালেও বিভিন্ন কারণে বহু আবেদন বাতিল হয়েছে। এরপর থেকেই প্রতিদিন অসংখ্য আবেদনকারী সাইবার ক্যাফেতে ভিড় করছেন নিজেদের আবেদনপত্রের খোঁজখবর নিতে। অনেকেরই অভিযোগ, একই সময়ে একই দোকান থেকে ফর্ম জমা দেওয়া হলেও কারও অ্যাকাউন্টে টাকা এসেছে, আবার কারও আসেনি। ফলে তাঁরা সাইবার ক্যাফে মালিকদের প্রশ্ন করছেন— আবেদনপত্রে কী ভুল ছিল, কেন তাঁদের আবেদন বাতিল হল, কিংবা ফর্ম ঠিকভাবে পূরণ করা হয়েছিল কি না।

এই অভিযোগের জবাবে অধিকাংশ সাইবার ক্যাফে মালিক জানিয়েছেন, আবেদনকারীদের দেওয়া তথ্য ও নথির ভিত্তিতেই সরকারি নির্দেশিকা মেনে ফর্ম পূরণ করা হয়েছে। কোন কারণে আবেদন বাতিল হয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরই বলতে পারবে। তাঁদের দাবি, আবেদন বাতিলের কারণ সম্পর্কেও কোনও তথ্য তাঁদের জানানো হয়নি। বর্তমানে যেহেতু নতুন করে যাচাইয়ের নির্দেশ এসেছে, তাই অকারণে তাঁদেরই নানা অভিযোগের মুখে পড়তে হচ্ছে।

এদিকে যাঁদের আবেদন বাতিল হয়েছে, তাঁদের নতুন করে যাচাইয়ের জন্য আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, ভোটার তালিকার কপি, ব্যাঙ্ক পাসবই, আবেদনপত্র-সহ একাধিক নথির ফটোকপি জমা দিতে বলা হয়েছে। এর জেরে এলাকার জেরক্সের দোকানগুলিতে গ্রাহকদের ভিড় বেড়েছে এবং ব্যবসায়ীরাও অতিরিক্ত কাজ পাচ্ছেন।

কৃষ্ণনগরের আবেদনকারী শিউলি বিশ্বাস জানান, প্রকল্পের শুরু থেকেই সাধারণ মানুষকে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। প্রথমে ডিবিটি সংক্রান্ত জটিলতা, পরে টাকা না আসায় কেউ পঞ্চায়েত অফিস, কেউ আবার বিডিও অফিসে দৌড়চ্ছেন। এখন পুনরায় যাচাইয়ের পর অনুদানের টাকা অ্যাকাউন্টে জমা পড়বে— সেই আশাতেই অপেক্ষা করছেন তাঁরা।

অন্যদিকে, সাইবার ক্যাফে মালিক দীপ বাড়ুই বলেন, এটি তাঁদের পেশা এবং কেউই ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল করে নিজের ব্যবসার সুনাম নষ্ট করতে চান না। আবেদনপত্র পূরণের সময় আবেদনকারীদের সমস্ত তথ্য দেখিয়েই ও বুঝিয়েই ফর্ম জমা দেওয়া হয়েছে। তাই টাকা না এলে বা আবেদন বাতিল হলে তার জন্য তাঁদের দায়ী করা ঠিক নয় বলে তিনি দাবি করেন।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0