বারাসত হাসপাতালে হঠাৎ পরিদর্শনে ক্ষুব্ধ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শোকজের নির্দেশ ওয়ার্ড মাস্টার সহ বেশ কয়েকজনকে!
রাজ্যের সরকারি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজগুলির দীর্ঘদিনের অব্যবস্থা দূর করতে একের পর এক কড়া পদক্ষেপের ঘোষণা করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। বেডের সংকট, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ও স্যালাইন, হাসপাতাল চত্বরে অবাধে ঘুরে বেড়ানো কুকুর-বিড়াল, রোগী পরিষেবার নানা গাফিলতি—এই সমস্ত সমস্যার অবসান ঘটাতেই বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে বের হন তিনি।
বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে একাধিক হাসপাতাল ঘুরে দেখার পর দুপুরে বারাসত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পৌঁছে রোগী পরিষেবার বেহাল চিত্র দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। হাসপাতালের পরিকাঠামো ও পরিষেবার নানা ত্রুটি চোখে পড়তেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। সূত্রের খবর, ওয়ার্ড মাস্টার-সহ একাধিক কর্মীকে শোকজ করা হয়েছে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁদের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
পরিদর্শনের পর শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, অতীতের জন্য কাউকে দোষারোপ করে লাভ নেই। বর্তমানে স্বাস্থ্য দপ্তরের দায়িত্ব তাঁর কাঁধে, তাই সমস্যার সমাধান করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। তিনি জানান, সরকারি হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ডে ধাপে ধাপে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হবে। শুধু মেডিক্যাল কলেজ নয়, গ্রামীণ, মহকুমা ও জেলা হাসপাতালেও একই ব্যবস্থা চালু করা হবে। পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলির পরিষেবার ওপরও নজরদারি বাড়ানো হবে।
মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বা স্যালাইন যাতে কোনওভাবেই রোগীদের কাছে না পৌঁছায়, তার জন্য প্রতি সপ্তাহে স্বাস্থ্যভবনের পক্ষ থেকে বিশেষ পরিদর্শন অভিযান চালানো হবে বলেও জানান তিনি। হাসপাতালগুলিতে দালালচক্র নির্মূল করতে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও তাঁদের পরিজনদের জন্য বিশেষ পরিচয়পত্র বা ব্যাজ চালুর কথাও ঘোষণা করেন। তাঁর বক্তব্য, বৈধ পরিচয়পত্র ছাড়া হাসপাতালের ভিতরে যাঁরা থাকবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, স্বাস্থ্যভবনের কন্ট্রোল রুম থেকে রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালের পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হবে। পরিদর্শনের সময় তিনি আইডি হাসপাতালে কুকুরের অবাধ বিচরণ এবং বারাসত মেডিক্যালের সামগ্রিক অব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে প্রান্তিক এলাকার হাসপাতালগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় রেফারের প্রবণতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
এদিন নবান্নে যাওয়ার আগে মুখ্যমন্ত্রীও আচমকা স্বাস্থ্যভবনে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। স্বাস্থ্যকর্মী ও আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে তিনি হাসপাতালগুলির পরিষেবা আরও উন্নত করার নির্দেশ দেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। পরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্যভবনের কন্ট্রোল রুম থেকে হাসপাতালগুলির লাইভ মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা হবে এবং আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে মহকুমা হাসপাতালগুলিকেও সেই ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে।
এছাড়াও হাসপাতালের ওয়ার্ডের পাশাপাশি রান্নাঘর, পার্কিং এলাকা-সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশও নজরদারির আওতায় আনা হবে। রোগীদের খাবারের জন্য বরাদ্দ অর্থ বাড়ানোর কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, কেন্দ্র সরকার হাসপাতালগুলিকে ‘আয়ুষ্মান মন্দির’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে, তাই মন্দিরের মতোই হাসপাতালেও পরিচ্ছন্নতা, শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা এবং সেবার মান বজায় রাখতে হবে। একইসঙ্গে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0