এবার ১২০০ কোটির চাল দুর্নীতি, ডবল ইঞ্জিন মধ্যপ্রদেশে ইথানলের নামে কেলেঙ্কারি, তোলপাড় দেশ
নয়াদিল্লি: মন্দিরের পর এবার চাল দুর্নীতি। সেটাও ডবল ইঞ্জিন মধ্যপ্রদেশে। ইথানল উৎপাদনের কারখানায় পাঠানো হয়েছিল এফসিআই গুদাম থেকে ভরতুকিপ্রাপ্ত চাল। সেই চালের ভাণ্ডার পৌঁছে গিয়েছে প্রাইভেট রাইস মিলে। এখানেই শেষ নয়। ওই রাইস মিলগুলি থেকেই আবার কাগজপত্র তৈরি করে সরকারের প্রকল্পের জন্য বাজার থেকে চাল সংগ্রহ যোজনায় সরকারকে একই চাল বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এভাবে সরিয়ে ফেলা হয়েছে ৫ লক্ষ টন! দুর্নীতির অঙ্ক? আনুমানিক ১২০০ কোটি টাকা।
মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে উজ্জয়িনীতে জমি দুর্নীতির অভিযোগ আগেই উঠেছে। প্রকাশ্যে এসেছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বিরুদ্ধে তাঁর মন্ত্রক থেকেই নিজের সংস্থাকে ভরতুকি পাইয়ে দেওয়ার বিতর্ক। রামমন্দির থেকে বদ্রীনাথ হয়ে বগলামুখী মন্দিরে প্রণামি আত্মসাতের একের পর এক তোলপাড় করা কেলেঙ্কারি। মোদি সরকারের দ্বাদশ বর্ষে প্যান্ডোরা বাক্সের মতো যেন আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠছে রাজনীতি। অথচ প্রধানমন্ত্রী নিজেই ঘোষণা করেছিলেন, ‘না খাউঙ্গা না খানে দুঙ্গা’। প্রেক্ষাপট কী ছিল? কমনওয়েলথ থেকে টুজি, ইউপিএ সরকারের আর্থিক দুর্নীতির বিতর্কের বৈতরণী চেপে মোদি সরকারের ক্ষমতায় আসা। এরপরও কিন্তু অনিয়মের ছায়া দীর্ঘতর হচ্ছে বিজেপি সরকারের শাসনে। শনিবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে বলেছেন, ‘মোদি সরকারের আমলে দুর্নীতির একটি করে ঘটনা প্রতিদিন ফাঁস হচ্ছে। আর মধ্যপ্রদেশ সেই আর্থিক দুর্নীতির ভরকেন্দ্র। গরিব মানুষের জন্য বরাদ্দ সরকারি ভাণ্ডারে থাকা চাল কখনো চলে যাচ্ছে রাইস মিলে, আবার উত্তর-পূর্ব ভারতের জন্য বরাদ্দ চাল চলে যাচ্ছে বাজারে।’ মধ্যপ্রদেশ পুলিশ চারজনকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে। তৈরি হয়েছে স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (এসআইটি)।
তাতেও সংসদের বাদল অধিবেশনের ঠিক আগে বিতর্কের আগুন চাপা দেওয়া যাচ্ছে না। দিল্লি ও উত্তর ভারতের এফসিআই জোনেও একই রকম দুর্নীতির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। অসম সহ উত্তর-পূর্ব ভারতে গরিব কল্যাণ যোজনার জন্য যে চাল পাঠানোর কথা, সেই চাল চলে গিয়েছে রাইস মিল ও বাজারে। কেন্দ্রীয় খাদ্য বিপণন মন্ত্রক এই অভিযোগ পেয়ে ইতিমধ্যেই এফসিআইয়ের এক এগজিকিউটিভ ডিরেক্টর সহ পাঁচজনকে সাসপেন্ড করেছে।
প্রশ্ন উঠছে, আর কোন কোন রাজ্যে এভাবে এফসিআই ভাণ্ডারের চাল যাচ্ছে বেসরকারি রাইস মিলে? যদিও সবকিছু ছাপিয়ে যাচ্ছে মধ্যপ্রদেশের চাল দুর্নীতি। কারণ, ইথানল। পেট্রলের সঙ্গে যা মেশানোর ‘পরিকল্পনা’য় কেন্দ্র মরিয়া। এখন বাজারে চলছে ই-২০ পেট্রল। অর্থাৎ প্রতি লিটারে ৮০ শতাংশ পেট্রল, ২০ শতাংশ ইথানল। সরকার ইথানলের পরিমাণ আরও বাড়াতে চায়। সেটাই বিতর্ক বাড়াচ্ছে। অরবিন্দ কেজরিওয়াল শনিবারই বলেছেন, ‘ইথানল নিয়ে সামান্য বিরোধিতাও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা কেন সহ্য করতে পারছেন না? রহস্য কী?’ নজরকাড়া বিষয় হল, সরকারের এই নীতির জেরে বিগত কয়েক বছরে দেশে সবথেকে দ্রুতহারে বেড়েছে ইথানল কারখানা। ইথানল তৈরিতে চালের প্রয়োজন। আর সংস্থাগুলিকে সাহায্য করতে এফসিআই থেকে সস্তায় চাল পাঠানো হয় এইসব প্লান্টে। কিন্তু মধ্যপ্রদেশের ছিন্দওয়াড়ার একটি প্লান্টে পাঠানো চাল আদৌ পৌঁছায়নি। তদন্ত করে পুলিশ জানতে পেরেছে, সেই চাল চলে গিয়েছে বালাঘাটে রাইস মিলে। মধ্যপ্রদেশ পুলিশই বলেছে, এটা সম্ভবত হিমশৈলের চূড়া। বিরাট চক্র কাজ করছে। আমরা এর শিকড়ে যাব। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, কতদিন ধরে চলছে এফসিআইয়ের চাল অন্যত্র সরিয়ে ফেলার এই আন্তঃরাজ্য প্রবণতা? রামমন্দিরের প্রণামি থেকে নিট বিতর্ক। জমি দুর্নীতি থেকে চাল কেলেঙ্কারি। সংসদের বাদল অধিবেশনে ঝড় উঠতে চলেছে, সেই আভাস স্পষ্ট।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0