থ্রি মাস্কেটিয়ার্স! কন্ট্রোলার ওলিস, এমবাপে-দেম্বেলেদের নিয়ে ছুটছে ফ্রান্সের এক্সপ্রেস
ফ্রান্সে দ্রুতগতির ট্রেনকে বলা হয় ‘টিভিজি’। বিশ্বব্যাপী এর পরিচিতি শুধুমাত্র তীব্র গতির জন্য। সেটা যদি তিন ট্রেনের সমাহার হয়?
বুঝলেন না তো? এতদিন শুধুই ‘এমবাপে…এমবাপে…’ কোরাস ফরাসি গ্যালারিতে। যা নিয়ে শুরু থেকে প্রবল আপত্তি ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশঁর। ব্যালন ডি’অর পাওয়া উসমান দেম্বেলের সঙ্গে শুরু থেকে এমবাপের একটা হালকা ইগোর লড়াই, নজর এড়ায়নি কোচের। বাধ্য হয়ে মরক্কোর বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ খেলতে নামার আগে ড্রেসিংরুমকে সতর্ক করে দেন দেশঁ– “তারকা নির্ভরতা ছাড়তে হবে। খেলতে হবে দল হিসেবে।” এই বল্গাহীন ঝোড়ো গতির দুই ট্রেনের ইঞ্জিনকে সামালাবে কে? কন্ট্রোল রুমে বসে কোন কে ঠিক করবেন–এমবাপে আর দেম্বেলে কে কখন দ্রুত গতিতে প্রতিপক্ষর বক্সে বল নিয়ে ঢুকে পড়বেন?
অনেক ভাবনা-চিন্তা করে কোচ দেশঁ পিছন থেকে মাইকেল ওলিসের হাতে দায়িত্ব তুলে দিলেন এই ট্রেন কন্ট্রোলারের। অনেকে বলছেন, এই বিশ্বকাপে ফ্রান্সের অশ্বমেধের ঘোড়া ছোটানোর পিছনে আসল মস্তিষ্ক নাকি মিডফিল্ডার ওলিসের।
এমবাপে-দেম্বেলে-ওলিস। ফ্রান্সের ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বরকে ফরাসি মিডিয়া আদর করে নাম দিয়েছে, ‘লে ট্রায়াঙ্গেল টিভিজি।’ এমবাপেকে যখন প্রতিপক্ষ একসঙ্গে দু’জন মিলে মার্ক করছেন, তখন ডানদিকে দেম্বেলের উদ্দেশ্যে পাস বাড়ান ওলিস। প্রতিপক্ষ পড়ে যাচ্ছে ধাঁধায়। ফিফার টেকনিক্যাল কমিটিতে থাকায় বিশ্বকাপের প্রতি ভেন্যু ঘুরে বেড়ানো আর্সেন ওয়েঙ্গার বলছিলেন, “এমবাপে-দেম্বেলের পিনে ওসিলকে ফিট করাটাই হচ্ছে কোচ দেশঁর মাস্টারস্ট্রোক।”
এমবাপে ঝড়ের গতিতে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের দুমড়ে-মুচড়ে শেষ করে দিতে পারেন। দেম্বেলে যে কোন পায়ের ড্রিবলার, তা বুঝে ওঠার আগেই প্রতিপক্ষ ধরাশায়ী। এক সাংবাদিক দেম্বেলেকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তিনি কোন পায়ে খেলতে স্বচ্ছন্দ্য বোধ করেন? দেম্বেলে হেসে উত্তর দিয়েছিলেন, তিনি বাঁ পায়ে ড্রিবল করেন। আর পেনাল্টি মারেন ডান পায়ে।
ফ্রান্স দলের দুই প্রান্ত বরাবর এই ঝোড়ো গতিকে নির্দিষ্ট কক্ষপথে পরিচালনার স্টিয়ারিং এখন ওলিসের কাছে। তাঁর ‘ওভার দ্য হেড’ ধরে কাট করে বক্সে ঢুকে পড়ছেন এমবাপে। পাস দিচ্ছেন দেম্বেলেকে। সেখান থেকে গোল। এই ত্রিভুজই কি বিশ্ব ফুটবলের সেরা? আলোচনাটা কিন্তু শুরু হয়ে গিয়েছে। এই আলোচনায় অবশ্যই ঢুকে পড়েছেন ফুটবলের সবেচেয়ে আলোচিত ত্রিভুজ। ২০০২ বিশ্বকাপের ‘রোনাল্ডো-রিভাল্ডো-রোনাল্ডিনহো।’
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0