পানীয় জল থেকে প্লাস্টিক সরাবে তেঁতুলের বীজ! তাক লাগানো আবিষ্কার ভারতীয় পড়ুয়াদের

Jul 10, 2026 - 15:41
 0  0

তেঁতুলের বীজ এতদিন প্রসাধনী ও কিছু চিকিৎসাজনিত কাজে ব্যবহৃত হলেও, সেই সাধারণ বীজই যে পরিবেশ রক্ষার এক যুগান্তকারী প্রযুক্তির মূল উপাদান হয়ে উঠতে পারে, তা হয়তো অনেকের কল্পনাতেও ছিল না। কিন্তু সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করে দেখিয়েছেন তিন ভারতীয় পড়ুয়া। তাঁদের অভিনব উদ্ভাবনই জিতে নিয়েছে ‘দ্য আর্থ প্রাইজ ২০২৬’-এর সম্মান।

বিশ্বজুড়ে দূষণ বৃদ্ধির সঙ্গে পানীয় জলে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। প্রচলিত জল পরিশোধন ব্যবস্থায় অনেক সময় অতি ক্ষুদ্র এই প্লাস্টিক কণাগুলি সম্পূর্ণভাবে ধরা পড়ে না। ফলে সেগুলি মানুষের শরীরে প্রবেশ করে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

এই সমস্যার সমাধানে বিবান ছওছারিয়া, আরিয়ানা আগরওয়াল এবং অভ্যানা মেহতা তৈরি করেছেন অভিনব প্রযুক্তি ‘প্লাস-স্টিক’। এই পদ্ধতিতে ফেলে দেওয়া তেঁতুলের বীজ গুঁড়ো করে একটি জৈব-বিয়োজ্য উপাদান তৈরি করা হয়। সেই উপাদান জলে থাকা সূক্ষ্ম মাইক্রোপ্লাস্টিক কণার সঙ্গে যুক্ত হয়ে সেগুলিকে ছোট ছোট দলায় পরিণত করে। পরে চুম্বকের সাহায্যে সেই দলাগুলি সহজেই জল থেকে আলাদা করা যায়।

এই প্রযুক্তির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, গোটা প্রক্রিয়ায় কোনও ক্ষতিকর রাসায়নিকের প্রয়োজন হয় না। পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, প্রচলিত বহু ফিল্টারে ধরা না পড়া মাইক্রোপ্লাস্টিকও ‘প্লাস-স্টিক’-এর মাধ্যমে অপসারণ করা সম্ভব।

এই পরিবেশবান্ধব উদ্ভাবনের স্বীকৃতি হিসেবেই ভারতীয় এই তিন পড়ুয়া অর্জন করেছেন ‘দ্য আর্থ প্রাইজ ২০২৬’-এর বিজয়ীর সম্মান। তাঁরা জানিয়েছেন, জল থেকে সংগ্রহ করা মাইক্রোপ্লাস্টিক যাতে ফের পরিবেশে বর্জ্য হিসেবে ফিরে না যায়, সে দিকেও নজর দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে সেই প্লাস্টিক ব্যবহার করে টাইলস, কোস্টার কিংবা অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁদের।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0