‘আসল’ তৃণমূল কারা? বাড়তি সময় নিয়ে কমিশনে নথি জমা ঋতব্রত শিবিরের
তৃণমূল কংগ্রেসের ‘আসল’ শিবির কোনটি, তা নির্ধারণের লড়াইয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী। কমিশনের নির্ধারিত সময়সীমার তুলনায় অতিরিক্ত চার দিন সময় নিয়ে শুক্রবার নিজেদের দাবির সমর্থনে প্রমাণ পেশ করেন ঋতব্রতপন্থীরা।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূল কংগ্রেস কার্যত দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ে। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী, অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবির। দলের নাম, প্রতীক, সংগঠন ও তহবিলের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নির্ধারণের জন্য দুই পক্ষকেই ৬ জুলাইয়ের মধ্যে নথি জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই কমিশনে নিজেদের বক্তব্য ও প্রমাণ পেশ করে। তাঁদের হয়ে মহুয়া মৈত্র, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সাগরিকা ঘোষ কমিশনের দপ্তরে নথি জমা দেন।
অন্যদিকে, ঋতব্রত শিবির নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নথি জমা দিতে পারেনি। তারা কমিশনের কাছে আরও সময় চায়। সেই আবেদন মেনে তাদের ১০ জুলাই পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়। সেই সময়সীমার মধ্যেই শুক্রবার প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেয় ঋতব্রতপন্থী গোষ্ঠী।
তৃণমূলের মোট ৮০ জন নির্বাচিত বিধায়কের মধ্যে ৬৩ জন বর্তমানে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরে রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কের সমর্থনের ভিত্তিতেই নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে তুলে ধরছে তারা।
তবে শুধু বিধায়ক সংখ্যাই নয়, নির্বাচন কমিশনের কাছে দলের সাংগঠনিক কাঠামো, পদাধিকারীদের সমর্থন, তহবিল এবং দলীয় কার্যক্রমের উপর নিয়ন্ত্রণের প্রমাণও গুরুত্বপূর্ণ। দুই পক্ষের জমা দেওয়া নথি যাচাই করেই কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, কমিশনের সিদ্ধান্তই তাঁরা মেনে নেবেন। এদিকে নিজেদের রাজ্য সভাপতি নির্বাচন নিয়েও শিগগির বৈঠকে বসতে পারে ঋতব্রত শিবির। এখন নির্বাচন কমিশন কাদের তৃণমূলের বৈধ নেতৃত্ব হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0
