পুরুষদের অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ঢুকিয়ে আত্মসাৎ! ধৃত তৃণমূল নেতা
পুরুষদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর টাকা পাঠিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ার আলমপুর পঞ্চায়েতের মোল্লা নজরুল ইসলাম ওরফে বাবলু মোল্লাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে ভূমিহীন ব্যক্তিদের অ্যাকাউন্টে ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্পের টাকা পাইয়ে দিয়েও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
তদন্তকারীদের দাবি, এই কাজে নজরুলকে সহযোগিতা করেছিলেন কাটোয়া-১ বিডিও অফিসের ডিপিপি অপারেটর কার্তিক মণ্ডল। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
কাটোয়ার আলমপুর গ্রামের বাসিন্দা দীনেশ অধিকারী কয়েক দিন আগে নজরুল ও কার্তিকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে বাপ্পা মণ্ডল, সুখেন মণ্ডল, কুশল ঘোষ এবং নীলরতন ঘোষ-সহ কয়েকজন পুরুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের অর্থ পাঠানো হয়েছিল।
একইভাবে রিনা মণ্ডল, চিন্তাময়ী মণ্ডল ও নমিতা মণ্ডল-সহ কয়েকজনের অ্যাকাউন্টে কৃষক বন্ধু প্রকল্পের টাকা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। অথচ তাঁদের নামে কোনও কৃষিজমি নেই বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এইভাবে সরকারি অর্থ বেআইনিভাবে আত্মসাৎ করা হয়েছে দাবি করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানান অভিযোগকারী।
তদন্তে নেমে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর নজরুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শুক্রবার তাঁকে কাটোয়া আদালতে পেশ করা হলে বিচারক পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত রয়েছেন কি না, তা জানতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, তোলাবাজি, ভোট-পরবর্তী হিংসা এবং হুমকি-সহ একাধিক অভিযোগে বর্ধমান পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর ও আইএনটিটিইউসির পূর্ব বর্ধমান জেলার প্রাক্তন সভাপতি সৈয়দ মহম্মদ সেলিমকে বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে বর্ধমান থানার পুলিশ।
শুক্রবার তাঁকে বর্ধমান আদালতে পেশ করার সময় বিক্ষোভকারীদের একাংশ তাঁর দিকে ডিম ছোড়ে। একটি ডিম তাঁর মাথায় লাগে বলেও জানা গিয়েছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
দুই ক্ষেত্রেই অভিযোগগুলি তদন্তাধীন। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত ধৃতদের অভিযুক্ত হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0
