১৬ জুলাই রথোৎসব, পুরীতে পা রাখার আগে জেনে নিন জগন্নাথ ধামের নিয়মাবলি

Jul 13, 2026 - 18:09
 0  0
১৬ জুলাই রথোৎসব, পুরীতে পা রাখার আগে জেনে নিন জগন্নাথ ধামের নিয়মাবলি

বর্ষা নামতেই উৎসবের সাজে সেজে উঠেছে ওড়িশার পুরী। আর মাত্র কয়েকদিন পর, আগামী ১৬ জুলাই শুরু হতে চলেছে জগন্নাথদেবের রথযাত্রা। নয় দিন ধরে চলা এই উৎসবের সমাপ্তি হবে ২৪ জুলাই ‘বহুদা যাত্রা’ বা উলটোরথের মাধ্যমে। পুরীর গ্র্যান্ড রোডে রথের রশি স্পর্শ করতে কিংবা এই মহোৎসবের সাক্ষী হতে চাইলে রওনা হওয়ার আগেই গুছিয়ে নেওয়া প্রয়োজন ভ্রমণ পরিকল্পনা।

তিন রথেই মূল আকর্ষণ

পুরীর রথযাত্রার কেন্দ্রবিন্দু জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রার তিনটি বিশাল কাঠের রথ। বিশেষ ধর্মীয় আচার মেনে প্রতি বছর এগুলি তৈরি করা হয়। আষাঢ় মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে যাত্রা শুরু হয়। প্রথমে থাকে বলভদ্রের রথ, মাঝখানে সুভদ্রার এবং সবশেষে ‘নন্দীঘোষ’ রথে মাসির বাড়ির উদ্দেশে যাত্রা করেন জগন্নাথদেব।

মূল মন্দিরে অহিন্দুদের প্রবেশাধিকার না থাকলেও রথযাত্রার সময় ধর্ম, জাত বা পরিচয় নির্বিশেষে সকলেই দেবদর্শনের সুযোগ পান। ফলে এই উৎসব কেবল ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং ঐক্য ও সংস্কৃতির এক বিশাল মিলনমেলা।

ভিড় ও যান নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা

রথযাত্রা উপলক্ষে দেশ-বিদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ ভক্ত পুরীতে সমবেত হন। তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওড়িশা প্রশাসন ও মন্দির কর্তৃপক্ষ বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছে। গ্র্যান্ড রোড এবং আশপাশের এলাকায় যান চলাচলে একাধিক বিধিনিষেধ থাকবে। গাড়ি রাখার জন্য নির্দিষ্ট পার্কিং জোন চিহ্নিত করা হয়েছে। ফলে স্থানীয় প্রশাসন ও ট্রাফিক পুলিশের নির্দেশ মেনে চলাই নিরাপদ।

পোশাক ও নিরাপত্তায় সতর্ক থাকুন

জুলাই মাসে পুরীতে গরমের সঙ্গে আর্দ্রতাও বেশি থাকে। তাই হালকা সুতির পোশাক পরা এবং সঙ্গে পর্যাপ্ত পানীয় জল রাখা জরুরি। রথ টানার ক্ষেত্রে ধর্মীয় কোনও বাধা নেই। তবে মন্দির সংলগ্ন নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকায় মোবাইল ফোন, ক্যামেরা, চামড়ার বেল্ট ও পার্স নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকতে পারে। তাই এসব সামগ্রী হোটেলে রেখে বেরোনোই সুবিধাজনক।

মহাপ্রসাদের সঙ্গে চেখে দেখুন স্থানীয় খাবার

পুরী সফর মহাপ্রসাদ ছাড়া অসম্পূর্ণ। রথযাত্রার সময় ছাপ্পান্ন ভোগের পাশাপাশি ওড়িশার নিজস্ব খাবারও চেখে দেখতে পারেন। ডালমা, বড়া-ঘুগনি, ছানাপোড়া এবং গরম খাজা পর্যটকদের বিশেষ পছন্দের।

আগেভাগেই সেরে ফেলুন বুকিং

রথযাত্রার সময় পুরীতে হোটেল বা ধর্মশালা পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। তাই হোটেল, বিচ রিসোর্ট বা ধর্মশালা—যেখানেই থাকার পরিকল্পনা থাকুক, আগাম বুকিং করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

পুরী পৌঁছানোর জন্য ট্রেন সবচেয়ে সুবিধাজনক মাধ্যম। বিমানে গেলে ভুবনেশ্বরের বিজু পট্টনায়ক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে সেখান থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার পথ বাস বা ট্যাক্সিতে যাওয়া যায়।

সঠিক পরিকল্পনা ও প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চললে পুরীর রথযাত্রার এই আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা আজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকতে পারে।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0