‘শিক্ষিকা-অফিসারের আগে দক্ষ মা হন’, আনন্দীবেনের বিতর্কিত মন্তব্য ‘সমর্থন’ কঙ্গনার

Jul 13, 2026 - 17:27
 0  0
‘শিক্ষিকা-অফিসারের আগে দক্ষ মা হন’, আনন্দীবেনের বিতর্কিত মন্তব্য ‘সমর্থন’ কঙ্গনার

‘যে রাঁধে, সে চুলও বাঁধে’—নারীর বহুমুখী দক্ষতা বোঝাতে এই প্রবাদ দীর্ঘদিন ধরেই প্রচলিত। তবে উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপাল আনন্দীবেন প্যাটেলের সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে নারী মহলের একাংশে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

গত ৯ জুলাই কানপুরের ছত্রপতি শাহু জি মহারাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪১তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আনন্দীবেন বলেন, একজন নারী আইএএস অফিসার বা শিক্ষক যাই হন না কেন, তার আগে তাঁর দক্ষ মা হয়ে ওঠা প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রত্যেক নারীর রান্না জানা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাজ্যপালের বক্তব্যের ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় বিতর্ক। অনেকেই তাঁর মন্তব্যকে পুরনো ও গতানুগতিক মানসিকতার প্রতিফলন বলে সমালোচনা করেন। তবে এই বিতর্কে আনন্দীবেন প্যাটেলের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিজেপি সাংসদ ও অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত।

কঙ্গনার মতে, নারীরা দশভুজার মতো একসঙ্গে একাধিক দায়িত্ব সামলাতে সক্ষম। তাঁদের এই বহুমুখী ক্ষমতার কারণেই সমাজে দেবীরূপে সম্মান করা হয়। রাজ্যপালের বক্তব্যের ভিডিও শেয়ার করে তিনি বলেন, সন্তানকে লালনপালন করা, যত্ন নেওয়া এবং নিজের হাতে খাওয়ানো নারীর সহজাত প্রবৃত্তি। এগুলি আলাদাভাবে শেখার বিষয় নয় বলেই মত তাঁর।

নিজের শৈশবের স্মৃতিও ভাগ করে নেন কঙ্গনা। তিনি জানান, ছোটবেলায় তাঁর ভাই যখন ফুটবল ও ক্রিকেট খেলতেন, তখন তিনি পুতুলের জন্য ঘর বানাতেন, জামাকাপড় সেলাই করতেন এবং ছোট চুলায় রান্না করার অভিনয় করতেন। পুতুলের মা সেজে খেলার এই অভ্যাস দেখে পরিবারের সদস্যরাও আনন্দ পেতেন।

কঙ্গনা আরও বলেন, মানবজাতিকে লালনপালনের দায়িত্ব ঈশ্বর নারীদের দিয়েছেন এবং সেটিই তাঁদের প্রকৃত স্বভাব। সেই কারণেই নারীদের মা, দেবী, শক্তি ও অন্নপূর্ণার মতো বিভিন্ন রূপে সম্মান জানানো হয়। তাঁর মতে, প্রিয়জনকে ভালোবাসা, তাঁদের খাওয়ানো এবং স্নেহের সঙ্গে যত্ন নেওয়ার মধ্যে বিশেষ আনন্দ রয়েছে। এগুলিই নারীসত্তার অন্যতম সৌন্দর্য।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0