বর্ষার ইলিশ আর বাঙালি পদের প্রশংসা, কলকাতা কানেকশন নিয়ে আবেগতাড়িত হুমা
কলকাতার দর্শকদের কাছ থেকে কেমন সাড়া পেলেন?
অসাধারণ সাড়া পেয়েছি। এখানকার দর্শকরা শুধু সিনেমাপ্রেমী নন, সিনেমা সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন ও শিক্ষিতও। তাঁদের সামনে থেকে দেখা এবং সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানার অনুভূতি ভাষায় বোঝানো কঠিন। ছুটির দিনে হল পরিদর্শনে গিয়ে দর্শকে ভরা প্রেক্ষাগৃহ দেখে মনটা আনন্দে ভরে গিয়েছে।
কলকাতা সম্পর্কে আপনার প্রথম কী মনে পড়ে?
কলকাতার নাম শুনলেই ভালো খাবার, উন্নত সিনেমা এবং সমৃদ্ধ সাহিত্যের কথা মনে পড়ে। বাঙালি খাবারের মধ্যে আলুপোস্ত, বেগুনভাজা ও মাছের বিভিন্ন পদ আমার খুব পছন্দ। আর বর্ষাকালে ইলিশের কথা তো বলতেই হয়। ইলিশ আমার অন্যতম প্রিয় খাবার।
‘বেবি ডু ডাই ডু’ ছবিতে একজন মূক ও বধির খুনির চরিত্রে অভিনয় করা কতটা কঠিন ছিল?
চরিত্রটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল। আমাকে সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ শিখতে হয়েছে এবং মূলত চোখের অভিব্যক্তির মাধ্যমে চরিত্রটির আবেগ ফুটিয়ে তুলতে হয়েছে। এর আগে সংলাপ ও শরীরী ভাষা ব্যবহার করে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছি। কিন্তু এই ছবিতে সংলাপের সহায়তা ছিল না। তাই এটি আমার অভিনয়জীবনের সবচেয়ে কঠিন চরিত্রগুলোর মধ্যে অন্যতম।
‘গ্যাংস অফ ওয়াসিপুর’ ও ‘মহারানি’-তেও আপনাকে শক্তিশালী চরিত্রে দেখা গিয়েছে। গতানুগতিক চরিত্রের চেয়ে ব্যতিক্রমী চরিত্রই কি আপনার বেশি পছন্দ?
আমি সবসময় ভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতে চাই। পর্দায় বারবার একই ধরনের ভূমিকায় নিজেকে দেখতে চাই না। নতুন ধাঁচের এবং চেনা ছকের বাইরে থাকা চরিত্র আমাকে বেশি আকর্ষণ করে। সেই কারণেই ‘বেবি ডু ডাই ডু’ আমার কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
বক্স অফিসের পরিসংখ্যান বলছে, বলিউডের নারীকেন্দ্রিক ছবিগুলো ভালো ব্যবসা করতে পারছে না। এর কারণ কী বলে মনে করেন?
আমি মনে করি, বিষয়টিকে এভাবে দেখা ঠিক নয়। কোনও ছবি মুক্তির দু’-তিন দিনের মধ্যেই হিট না ফ্লপ, সেই সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাওয়া যায় না। এটি অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর একটি প্রবণতা। একটি ছবি তৈরি করতে দীর্ঘ সময়, শ্রম ও নিষ্ঠা প্রয়োজন হয়। মাত্র ৭২ ঘণ্টার ফলাফলের ভিত্তিতে কোনও ছবিকে সফল বা ব্যর্থ বলে চিহ্নিত করা উচিত নয়। আমরা এখন একটি কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। তাই সবকিছুকেই পর্যাপ্ত সময় দেওয়া প্রয়োজন।
অ্যাকশন ছবির পাশাপাশি ‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’-র মতো প্রেমের ছবিও ভালো ব্যবসা করছে। বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?
এই সাফল্যে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। গল্প বলার ধরন যদি সৎ ও বাস্তবসম্মত হয়, তাহলে দর্শক অবশ্যই সেই ছবিকে গ্রহণ করবেন। ‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’ তৃতীয় ও চতুর্থ সপ্তাহে ভালো ব্যবসা করেছে। আশা করছি, আমার ছবিও সেই পর্যায়ে পৌঁছে দর্শকদের ভালোবাসা এবং বক্স অফিসে সাফল্য পাবে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0
